পুরাণ অনুযায়ী, রাজ্যচ্যুত রাজা সুরথ ও সমাধি নামক এক বৈশ্য বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার মূর্তি নির্মাণ করে আরাধনা করেছিলেন। সেই পূজাই পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।

শাস্ত্র মতে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন নৌকায় এবং গমন ঘোড়ায়। নৌকায় আগমনের ফল হিসেবে শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধির প্রতীক ধরা হয়, আর ঘোড়ায় গমনের ফল ছত্রভঙ্গ—যার অর্থ অশান্তি বা অরাজকতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।
বাসন্তী পূজাকে কেন্দ্র করে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পূজার্চনা, আরতি, ধর্মসভা, ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, সিঁদুর খেলা এবং ভক্তদের জন্য অন্নপ্রসাদ বিতরণ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন দীপংকর মিত্র, আন্না মিত্র, প্রদীপ দে, রেশমী বসাক, জয়গোপাল রায় ও স্মৃতি দে প্রমুখ শিল্পীরা।

এবসিকন শহরের প্রবাসী বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। পূজার কয়েকটি দিন ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও উলুধ্বনিতে মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ। রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পক্ষে লিটন ধর ও সুনীল দাশ বাসন্তী পূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সুব্রত চৌধুরী :